Last Update: 2013-09-19 02:02:08 pm

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংলাপে রাজি নয় আওয়ামী লীগ

ডেস্ক রিপোর্ট 2013-09-12 08:33:02 pm

চাপ কিংবা অনুরোধ যা-ই আসুক না কেন, নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে কোনো আলোচনা, সমঝোতা বা সংলাপে যাবে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য আলোচনা, সমঝোতা বা সংলাপ হতে পারে বলে মনে করছেন দলের নেতারা। দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, সংবিধান মোতাবেক আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অবিচল সরকারি দল। আওয়ামী লীগ মনে করে, নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে হেরফের করার কোনো সুযোগ নেই। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বাইরে গেলে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে সরকার শপথ ভঙ্গ করতে পারবে না।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মূল দাবি নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতির পরিবর্তন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো আগ্রহ দেখাবে না আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দল দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে যেকোনো সময় যে কারো সঙ্গে আলোচনা, সমঝোতা ও সংলাপে রাজি আওয়ামী লীগ। তবে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সংবিধানের বাইরে গিয়ে নতিস্বীকার করার মতো ক্ষমতা, ইচ্ছা কোনোটাই নেই সরকারের।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনায় বসার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে গোঁ ধরে বিরোধী দল বিএনপি শুধু সময়ক্ষেপণ করবে। এর বাইরে কিছুই হবে না। বিএনপির আন্দোলনের হুমকি এখন জনগণের মধ্যে হাসির খোরাক হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন এই নেতা।
আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, সমঝোতা বা আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও সংবিধানের বাইরে গিয়ে সমাধান খুঁজতে একেবারেই নারাজ ক্ষমতাসীন দল। বিদেশিদের তৎপরতার বিষয়ে আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, 'বিদেশিরা সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন চায়। আমরা সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বদ্ধপরিকর। তারা তো সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করার কথা বলেনি। তাদের তৎপরতা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো চাপ নেই। বান কি মুনের ফোন, জন কেরির চিঠিকে খুবই স্বাভাবিকভাবেই দেখছে আওয়ামী লীগ।'
এ প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিদেশিদের উদ্যোগে নার্ভাস নয় সরকার।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে আলোচনা-সংলাপ যেকোনো কিছু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও প্রস্তুত আওয়ামী লীগ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশি তৎপরতায় চাপ অনুভব করছেন না। বরং প্রধানমন্ত্রী তাঁর ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে বিদেশি এ তৎপরতাকে কূটনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শেখ হাসিনা তাঁদের জানিয়েছেন যে সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচনের ব্যাপারে যত বড় বিদেশি চাপই আসুক না কেন তা 'রিফিউজ' হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, যেকোনো পদ্ধতিতে এখন নির্বাচনে আসতে রাজি প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের সমমনারা। তবে অবস্থান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় নির্বাচনে আসার ব্যাপারে এখনই পরিষ্কার অবস্থানে যেতে পারছে না তারা। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় যত ঘনিয়ে আসবে ধীরে ধীরে অবস্থান পরিবর্তন করে ভোটের লড়াইয়ে ঝুঁকবে বিএনপি।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবারও এক বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি ঐকমত্যে আসতে আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাকে টেলিফোন করে জাতিসংঘ মহাসচিব সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার আহ্বান জানান। এরপর একই রকম আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি চিঠি দিয়ে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদলও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের কথা বলেছে। এসব উদ্যোগ দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে সংলাপের জন্য চাপে ফেলেছে।
দেশি-বিদেশি নানা উদ্যোগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তনও এনেছে। এর আগে বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো রূপরেখা প্রকাশ করতে রাজি না হলেও এবার রাজি হয়েছে। গত সোমবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানিয়েছেন, তাঁরা খুব শিগগির নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রকাশ করবেন। আর মঙ্গলবার একে স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।
এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের কোনো সম্ভাবনা দেখেছেন না। তাঁরা বলছেন, রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে বিদেশি কূটনীতিকরা তৎপর হলেও তাঁরা কোনো সমাধানের জন্য প্রস্তাব দিচ্ছেন না। তাই দুই দলের বিপরীতমুখী দাবিতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশ। তাঁরা আরো বলছেন, সংলাপ নিয়ে দুই দলের কেবল কৌশল পরিবর্তনের খেলা চলছে।
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) প্রধান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ মনে করেন, সংলাপের এজেন্ডা রাজনৈতিক দলগুলোকেই ঠিক করতে হবে। কোনো এজেন্ডা না থাকলে বিভিন্ন চাপে হয়তো সংলাপ হবে; কিন্তু কোনো সমাধান আসবে না। তিনি বলেন, 'আমাদের সংলাপের ইতিহাস তেমন ভালো না। সেই ছিয়ানব্বই সাল থেকে সর্বশেষ গত মেয়াদে বিএনপির শেষ সময়েও প্রধান দুই দলের মহাসচিবের সংলাপে কোনো সমাধান আসেনি।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক কারণেই সরকার কালক্ষেপণ করছে। বিরোধী দলও তেমনই। বর্তমান অবস্থায় আওয়ামী লীগ মানুক বা না মানুক, বিএনপিকে একটা প্রস্তাব দিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন পাঠকের মন্তব্য (0)    মোট দর্শন(2521)

You can switch to English and Bangla anytime by pressing Ctrl+y in windows and linux (Command+y in mac)



Can't read the image? click here to refresh

X
(4:50 AM) raj: sdf
(4:50 AM) raj: o k
(5:50 AM) raasdsdf: sddsfsdff
(5:50 AM) raasdsdf: df fsdf sdf
(5:50 AM) raasdsdf: df sdfsdf
(5:50 AM) raasdsdf: sdfsdf
(5:50 AM) raasdsdf: sdf sdf
(5:50 AM) raasdsdf: sdfa sdf sdfsf
(5:51 AM) raasdsdf: dsf sdfsdf sdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdfas sdf sfsdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdf sdfasdfasdf
(5:51 AM) raasdsdf: sd asfasdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdf sfasdfsadfsdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdf asdfsdf
(3:14 AM) raj: .
(9:37 AM) :
(5:49 AM) irfan: best Bangladeshi news paper
(8:49 AM) :
(11:25 AM) arnob: Nice web portal with huge features anybody here
(6:21 AM) :
(8:25 AM) rabin: hi
(2:12 PM) আমাদের বানারীপাড়া: আমাদের বানারীপাড়া
(1:32 PM) :
(9:25 PM) পরি: আমার বিয়ে হয়েছে এই চার মাস চলছে। আমার স্বামী আমাকে রেপ করে বিয়ে করেছেন।আমার স্বামী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ তে পড়ছে। আমার বাবা মা দুজনই মৃত।এজন্য তার পরিবার থেকে মেনে নিবে না।ছেলে এখন অন্য মেয়ের সাথে রিলেশনে ব্যস্ত। আমার সাথে যৌতুক চেয়ে তালাকের হুমকি দিয়েছিল। ২ সপ্তাহ আগে জানতে পারলাম সে নাকি তালাক দিয়েছে কোন উকিলের কাছে যেয়ে দিয়েছে।কিন্তু আমার কাছে এখনো কোনো কাগজ বা নোটিস আসেনি। এই অবস্হায় আমি তাকে কিভাবে কঠোর শাস্তি প্রদান করিতে পারি। :-(
(9:30 PM) পরি: উল্লেখ্য তার সাথে ২ সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ সম্পূর্ন বন্ধ। শেষ কথার দিন আমাকে হুমকি দিয়েছিল, আমি তাকে ফোন করলে আমার নামে হ্যারাজমেন্ট মামলা করবে। আমার কাছে বিয়ের লিগাল কাবিন আছে
(2:54 AM) :
(1:27 AM) :