Last Update: 2013-09-19 02:02:08 pm

গৃহকর্মীরও আছে অধিকার

ডেস্ক রিপোর্ট 2013-06-12 07:42:55 pm

আমাদের পরিবারের সব কাজ দায়িত্ব নিয়ে সততার সঙ্গে করে যে গৃহপরিচারিকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলেও সে আমাদের পরিবারের সদস্য। তার প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। তবে তাদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে তারা যেমন জানেন না, তেমনি আমরাও এ বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে অবহেলা করি।

আমাদের গৃহকর্মীর প্রতি আচরন কেমন হবে এবং তার অধিকার সম্পর্কে ‌‍গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা—২০১০ এর খসরা:

বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ গৃহকর্মী হিসেবে দেশে-বিদেশে বাসাবাড়ির কাজে নিয়োজিত রয়েছে যাদের সিংহভাগই হচ্ছে কিশোর-কিশোরী ও শিশু। নিবন্ধন না থাকায় তাদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। লেবার ফোর্স সার্ভে ২০০৬ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে গৃহকর্মে নিয়োজিত মোট শ্রমিক ৩,৩১,০০০ (১৫ বছরের ওপরে)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশু শ্রম জরিপ ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী গৃহকর্মে নিয়োজিত মোট শিশু (৫-১৭ বছর) শ্রমিক হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ মেয়ে শিশু। তবে সাধারণ ধারণা মতে দেশে বর্তমানে ২০ লাখেরও বেশি শ্রমিক গৃহকর্মে নিয়োজিত আছে। গৃহকর্মের সঙ্গে যুক্তদের সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পেলেও তাদের মজুরি নির্ধারণ ও অন্যান্য অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ এবং আইনী কোন ব্যবস্থা বিদ্যমান নেই। ফলে বিপুল সংখ্যক এ শ্রম জনগোষ্ঠীর শ্রমিক হিসেবে কোন স্বীকৃতি নেই।

প্রস্তাবনা:

জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় ২৩, ২৪ ও ২৫ অনুচ্ছেদে শ্রমিকের মানবাধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সকল কর্মী বা শ্রমিকের সমমজুরি, বিশ্রাম, অবসর, যুক্তিযুক্ত কর্মঘণ্টাসহ শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার্থে সকল অধিকার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যুক্তিযুক্ত মজুরির বিনিময়ে কাজের নিশ্চয়তা এবং যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিণোদন, অবকাশ ও প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে বিধৃত হয়েছে। এছাড়াও সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী প্রত্যেক মানুষের এই সার্বজনীন অধিকারটি আমাদের সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।

শ্রমজীবী মানুষের আইনী সুরক্ষা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ বলবৎ রয়েছে। কিন্তু এ আইনে গৃহশ্রম এবং গৃহকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও নাগরিকের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়নের সুযোগ সংবিধানের ২৮ (৪) অনুচ্ছেদে রয়েছে।

নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত - এসব পরিবারের অপরিহার্য কাজসমূহ সম্পাদনে গুরূত্বপূর্ণ অবদান রাখা সত্বেও এসকল গৃহকর্মীর মৌলিক ও মানবাধিকার নানাভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এপ্রেক্ষিতে সরকার গৃহশ্রমে নিযুক্ত এ বিপুল জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় গৃহশ্রম বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের প্রথম ধাপ হিসেবে নিয়োগকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ও গৃহকর্মীদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

এ নীতিমালা গৃহকর্মে নিয়োজিত কর্মীদের নিবন্ধন, কাজের শর্ত ও নিরাপত্তা, শোভন কর্মপরিবেশ, মজুরি ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিয়োগকারী ও গৃহকর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক সমুন্নত রাখা এবং কোন অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তা নিরসনে দিক নির্দেশনা প্রদানসহ আমাদের সংবিধানে সমঅধিকার এবং সকল নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের মূলনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

১. প্রযোজ্য:

১.১) এই নীতিমালা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে

১.২) এই নীতিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে

১.৩) এই নীতিমালা বিশেষভাবে গৃহকর্মী, নিয়োগকারী ও তার পরিবারের সদস্য, সংশিষ্ট

সকল ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

২. সংজ্ঞা:

২.১) গৃহকর্ম:

গৃহকর্ম বলতে গৃহস্থালীর সকল কাজ যার অন্তর্ভুক্ত হবেঃ রান্না এবং রান্না সংশিষ্ট আনুষঙ্গিক কাজ, কাপড় ধোয়া, বাজার করা, বাড়ি-ঘরসহ বাড়ি সংশিষ্ট বিভিন্ন চত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, শিশু সন্তানের লালনপালন,

প্রবীণদের যত্ন বা সেবা, প্রতিবন্ধী যারা বাড়িতে বসবাস করে তাদের যত্ন এবং পারিবারিক অন্যান্য কাজ যা সাধারণতঃ গৃহঅভ্যন্তরে এবং গৃহস্থালী কাজ হিসেবে স্বীকৃত। তবে নিয়োগকারীর ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত বা মুনাফা সৃষ্টি করে এমন কাজ এর অর্ন্তভুক্ত হবে না।

২.২) গৃহকর্মী:

‘‘গৃহকর্মী’’ বলতে অন্যের বাড়িতে যিনি মৌখিক বা লিখিত যেভাবেই নিয়োগলাভ করূন গৃহকর্মের জন্য খণ্ডকালীন অথবা পূর্ণকালীন নিয়োগকৃত ব্যক্তি বা কর্মী।

২.৩) নিয়োগকারী:

‘‘নিয়োগকারী অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি গৃহকর্ম বা পারিবারিক কাজের জন্য কর্মী নিয়োগ করেন।

২.৪) নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ:

দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কার্যালয়,  পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবে।

২.৫ নিয়োগ সহায়তাকারীদেরকে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন থেকে গৃহকর্মী সরবরাহের ক্ষেত্রে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

৩. বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়:

৩.১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই নীতিমালা হিসেবে গণ্য হবে।

৩.২) নীতিমালা বাস্তবায়নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে সংশিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহ সহযোগিতা প্রদান করবে।

৩.৩ এ সম্পর্কিত কোন ব্যাখ্যা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রদান করবে।

ক) নিয়োগকর্তার দায়িত্ব:

প্রত্যেক নিয়োগকারী তার গৃহে নিয়োগকৃত গৃহকর্মীর বিষয়ে আচরণ বিধিতে উল্লেখিত দিক নির্দেশনাসমূহ

অনুসরণ করবেন;

১. অভিভাবকের সাথে চুক্তি:

গৃহকর্মে কিশোর বা কিশোরী (১৪ থেকে ১৮ বছর) নিয়োগ করতে হলে অভিভাবকের সাথে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক

হলে নিয়োগে ইচ্ছুক ব্যক্তির সাথে নিয়োগকর্তার চুক্তি থাকতে হবে এবং উক্ত চুক্তিতে উভয় পক্ষের নাম

ঠিকানা ও স্বাক্ষরসহ নিম্নোক্ত শর্তসমূহ উল্লেখ থাকতে হবে:

১.১) নিয়োগের ধরণ, ১.২) মজুরি, ১.৩) কর্মঘণ্টা, ১.৪) বিশ্রামের সময় ও ছুটি, ১.৫) লেখা-পড়ার ব্যবস্থা

১.৬) কাজের ধরণ, ১.৭) থাকা-খাওয়া ইত্যাদি।

উল্লেখ যে, অভিভাবকহীন কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে লিখিত অবহিতকরণ চুক্তি বলে গণ্য

হবে।

২. নিয়োগ ও পরিচয় পত্র:

প্রত্যেক নিয়োগকারী কর্তৃক পূর্ণকালীন গৃহকর্মীকে নিয়োগ এর সাথে সাথে তাকে ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করবেন। পরিচয়পত্রের একটি কপি নিয়োগকর্তা সংরক্ষণ করবেন এবং একটি কপি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে প্রদান করবেন। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে অনুলিপি সমাজকল্যাণ দপ্তর/থানা/স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/কমিশনার কার্যালয়-এ পাঠাতে হবে।

পরিচয়পত্রে নিম্নোক্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে-

নাম-  নিয়োগকারীর ঠিকানা-

মাতার নাম-  বয়স-

পিতার নাম-স্থানীয় অভিভাবকের নাম, ঠিকানা, টেলিফোন- (যদি থাকে)

স্বামী/স্ত্রীর নাম- নিয়োগের তারিখ-

স্থায়ী ঠিকানা- নিয়োগের ধরণ:

জাতীয় পরিচয়পত্র নং-(যদি থাকে) চাকুরির মেয়াদ-

জন্ম নিবন্ধন সনদ নং (যদি থাকে) ইস্যূর তারিখ-

নিয়োগকারীর স্বাক্ষর- গৃহকর্মীর স্বাক্ষর/টিপসই

৩. নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ:

পরিচয়পত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃক প্রত্যেক গৃহকর্মীকে সংশিষ্ট

স্থানীয় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিকট নিবন্ধন করাবেন এবং নিয়োগকর্তা উক্ত নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করবেন। নিয়োগকারীকে গৃহকর্মীর চাকুরির শুরু ও অবসান সংশিষ্ট বিষয়ে যথাসময়ে নিবন্ধনকারী দফতরে অবহিত করতে হবে।

৪. মজুরি:

মজুরি নির্ধারণ না করে কোন গৃহকর্মী নিয়োগ করা যাবে না। মজুরি অবশ্যই অর্থে নির্ধারিত হবে।

৪.১) মজুরি প্রদান: নিয়োগকারী কর্তৃক গৃহকর্মীকে মজুরিকাল শেষ হওয়ার পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মজুরি পরিশোধ করতে হবে। নিয়োগকারী গৃহকর্মীর জন্য উৎসব ভাতা এবং বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করবেন। গৃহকর্মী ব্যতিত অন্য কাউকে গৃহকর্মীর প্রাপ্য মজুরি প্রদান করা যাবে না।

৪.২) পূর্ণকালীন গৃহকর্মীর মজুরি:

গৃহকর্মীর জন্য সরকার কর্তৃক ন্যুনতম মজুরি ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। প্রত্যেক নিয়োগকারী চুক্তিতে উল্লেখিত মজুরি পরিশোধ করবেন। গহকর্মী ব্যতিত অন্য কাউকে তার প্রাপ্য মজুরি প্রদান করা যাবে না। গৃহকর্মীদের জন্য সরকার কর্তৃক ন্যূনতম মজুরি ঘোষিত হলে নিয়োগকারী তদঅনুযায়ী মজুরি প্রদান করবেন। শ্রমিকের ভরণ-পোষণ, থাকা ও চিকিৎসা ইত্যাদি ব্যয় নির্ধারিত মজুরির অতিরিক্ত বলে গণ্য হবে।

৪.৩) খন্ডকালীন গৃহকর্মীর মজুরি:

খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর মজুরি ওপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে কাজ বা ঘন্টার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। যদি কোন গৃহকর্মীকে আবাসন, খাবার প্রদান করা হয় তা মজুরির অতিরিক্ত বলে গণ্য হবে।

৫. কর্মঘণ্টা, ছুটি ও বিশ্রাম:

গৃহকর্মীর কর্মঘণ্টা বিষয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম মান ও দেশীয় আইন অনুসরণ করতে হবে। প্রত্যেক গৃহকর্মীর কর্মঘন্টা এমনভাবে বিন্যস্ত করতে হবে যাতে তিনি ঘুম ও বিশ্রামের জন্য রাতে ন্যূনতম

৮ (আট) ঘণ্টা ও দিনে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য বিরতি পান। প্রত্যেক গৃহকর্মীকে সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন ছুটি প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। কোন গৃহকর্মীকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন কাজে বাধ্য করা যাবে না। গৃহকর্মীর অভিভাবকের ও নিয়োগকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে সাপ্তাহিক ছুটির দিন গৃহকর্মীকে বাইরে যেতে দেয়া যাবে। তবে তা

গৃহকর্মীর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। গৃহকর্মীর বাৎসরিক ছুটি এমনভাবে বিন্যস্ত করতে হবে যাতে স্ব-স্ব ধর্মীয় উৎসবসমূহ বা এর অব্যবহিত পরে প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য বছরে মোট ২ সপ্তাহ (১৪ দিন) ছুটি ভোগ করতে পারেন। গৃহকর্মীর ঘুম ও বিশ্রামের জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত স্থান নিশ্চিত করতে হবে।

৬. গর্ভকালীন ও প্রসূতিকালীন সুবিধা:

গর্ভবতী নারী গৃহকর্মীকে তার গর্ভকালীন ও প্রসূতিকালীণ সময়ে মোট ১৬ (প্রসবের পূর্বে ৬ সপ্তাহ এবং প্রসবের পরে ১০ সপ্তাহ) সপ্তাহ সবেতনে মাতৃত্বকালীণ ছুটি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ভারী কাজ থেকে বিরত রাখা এবং বিশ্রামের সুযোগ প্রদান করতে হবে।

৭. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ:

গৃহকর্মীর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তার আগ্রহ অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃক নিজ উদ্যোগে নিজ আবাসস্থলে বা সংশিষ্ট এলাকার কোন প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। নিয়োগকারী কর্তৃক গৃহকর্মীর স্ব-স্ব ধর্মের মৌলিক ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

৮. চিকিৎসা:

অসুস্থ অবস্থায় গৃহকর্মীকে কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা ও ব্যয়ভার নিয়োগকারী বহন করবে। অসুস্থতার সময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে গৃহকর্মীকে, বাড়ি পাঠানো যাবে না।

৯. দূর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ:

কর্মরত অবস্থায় কোন গৃহকর্মী দুর্ঘটনার শিকার হলে যথাযথ চিকিৎসাসহ দুর্ঘটনা ও ক্ষতির ধরণ অনুযায়ী নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে মহানগর এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক ধার্য্যকৃত নিয়োগকারী কর্তৃক উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

খ) সরকারের দায়িত্ব:

১. নিবন্ধন:

    সরকার কর্তৃক সার্কুলার/দাপ্তরিক আদেশ/পরিপত্র- এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে গৃহকর্মীর নিবন্ধন
    প্রদানে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী প্রদান করতে হবে। সরকার প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট
    করবেন।
    সরকার আচরণবিধি জনগণের নিকট প্রচারের জন্য তথ্য ও গণমাধ্যমকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয়
    ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
    সরকার গৃহকর্মীদের সহায়তার জন্য হেল্প লাইন সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
    সরকার আচরণবিধি বাস্তবায়ন ও গৃহকর্মীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উদ্বুদ্ধকরণ
    কর্মসূচি পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

২. মজুরি নির্ধারণ:

    সরকার গৃহকর্মীর জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করবেন এবং উক্ত মজুরি মাসিক ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
    প্রত্যেক গৃহকর্মীর জন্য মজুরির পরিমাণ ও মেয়াদ উল্লেখসহ
    একটি মজুরি কার্ড থাকবে। প্রতি বারে মজুরি প্রদানের সময় মজুরি কার্ডে শ্রমিক ও নিয়োগকারীর স্বাক্ষর থাকতে হবে।
    নিয়োগকারী অবিভাবকহীন কিশোর-কিশোরী গৃহকর্মীর মজুরি তার সম্মতিক্রমে ব্যাংক জমা রাখতে
    উদ্যোগ গ্রহণ করবে যাতে গৃহকর্মী সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ হয়।

৩. নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা:

    গৃহকর্মীর প্রতি কোন প্রকার অশালীন আচরণ করা যাবে না এবং কোন প্রকার দৈহিক আঘাত ও নির্যাতন
    করা যাবে না।
    গৃহকর্মীর ওপর কোন রকম হয়রানি ও নির্যাতন এর ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রচলিত আইন
    অনুযায়ী সরকারের ওপর বর্তাবে। এ বিষয়ে সংশিষ্ট
    আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহকে শ্রম ও কর্মসংস্থান
    মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ও সুস্পষ্ট
    নির্দেশাবলী প্রদান করবে।
    কোন গৃহকর্মী নিয়োগকারী পরিবারের সদস্য বা আগত অতিথিদের দ্বারা কোন প্রকার শারীরিক ও
    মানসিক, যৌন নির্যাতন বা অশ্লীল আচরণের শিকার হলে নিয়োগকারী আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে
    দ্রূত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন; যেমন- থানায় জিডি বা মামলা করা, তদন্তকারীর নিকট ঘটনার
    কারণ, পূর্বাপর পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সহায়তা করে অপরাধ দমনে
    সহযোগিতা করতে হবে।
    সংশিষ্ট থানা যেন দ্রূত ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত
    মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক দাপ্তরিক নির্দেশনা জারি করবে।
    দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় গৃহকর্মীর প্রতি নির্যাতনের প্রতিকারে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে সরকারের
    কর্মকৌশল গ্রহণ করবেন।

৪. পরিদর্শন:

    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং সেল, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর
    ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকতাদের নেতৃত্বে, অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও সংশিষ্ট
    পৌরসভায় জেলা প্রশাসক মনোনীত প্রতিনিধির নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মনিটরিং সেল গঠিত হবে। প্রতি জেলায় জেলা
    প্রশাসক ও প্রতি উপজেলায় ইউএনও-এর নেতৃত্বে মনিটরিং সেল গঠিত হবে। মনিটরিং সেল কর্তৃক
    জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে মালিক, শ্রমিক সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি
    সমন্বয়ে পরিদর্শন টিম গঠিত হবে। তবে জেলা/উপজেলা মনিটরিং সেল প্রয়োজন মনে করলে ইউনিয়ন
    পর্যায়ে এক বা একাধিক পরিদর্শন টিম গঠন করতে পারবে।
    পরিদর্শন টিম সময় সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহকর্মীর প্রকৃত অবস্থা পরিদর্শন করবেন এবং কোন
    অভিযোগ প্রাপ্ত হলে বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তা তাৎক্ষনিকভাবে পরিদর্শন প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেলা
    প্রশাসক ও মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের প্রধানকে অবহিত করবেন।
    নিয়োগকারীকে আচরণবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে মনিটরিং টিম সার্বক্ষনিক নজরদারি রাখবেন।

অভিযোগ প্রাপ্ত হয়ে পরিদর্শন শেষে পরিদর্শন টিম-এর প্র¯‘তকৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে দ্রূত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার জন্য পরিদর্শন টিম সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করবেন; তবে প্রয়োজনে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারবেন।

সংশিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি বিভাগ, প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন টিম স্ব-স্ব উপজেলা, জেলা পর্যায়ে প্রশাসকের নিকট প্রতিবেদন পেশ করবেন। সংশিষ্ট কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় মামলা দায়েরের ব্যবস্থা করবেন।

অভিযোগ জানানো:

    কোন গৃহকর্মী তার নিয়োগকারী অপর পক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ বা অন্য
    কোনভাবে নির্যাতন বা বঞ্চনার শিকার হলে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মনিটরিং সেল/সংশিষ্ট
    দপ্তর/মানবাধিকার ও শ্রমিক সংগঠনসমূহে টেলিফোন বা লোক মারফত বা চিঠির মাধ্যমে বা দরখাস্ত বা
    আবেদনের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে, মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করতে
    পারবেন। সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত গৃহকর্মীদের সহায়তার জন্য হেল্প লাইন সিস্টেমের মাধ্যমেও
    অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে।
    নীতিমালায় যাই থাকুক না কেন গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় ফৌজদারী মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোন
    বাঁধা/প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবেনা।
    নীতিমালার বাধ্যবাধকতা
    ১৪ বছরের নীচে কোন শিশুকে গৃহকাজে নিয়োগ করা যাবে না। তবে বিশেষ অবস্থায় বারো বছর
    বয়ঃপ্রাপ্ত কোন শিশুকে গৃহকাজে নিয়োগ করা যাবে যা তার স্বাস্থ্য ও উন্নতির জন্য বিপজ্জনক নহে, অথবা
    যা তার শিক্ষা গ্রহণকে বিঘ্নিত করবে না । শিশু যদি বিদ্যালয়গামী হয় তা হলে তার কর্মসময় এমনভাবে
    নির্ধারণ করতে হবে যেন এটি তার বিদ্যালয় গমনকে বিঘ্নিত না করে।
    কোন গৃহকর্মীকে তালা বন্ধ করে রাখা যাবেনা। তবে তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাড়ি তালাবদ্ধ
    করতে হলেও একটি চাবি তার নিকট রাখতে হবে যাতে আকষ্মিক দুর্ঘটনায় সে প্রতিবেশীর সহায়তায়
    বাড়ির ভেতর থেকে বের হতে পারে।
    বয়স ও সামর্থের সাথে অসামঞ্জস্য বিবেচিত কোন ভারী ও বিপদজনক কাজে কিশোর কিশোরী নিয়োগ
    করা যাবেনা।
    কোন গৃহকর্মীকে তার ইচ্ছার বিরূদ্ধে নিয়োগ করা যাবেনা এবং কোন ধরণের অনৈতিক কাজ করানো
    যাবে না বা উদ্বুদ্ধ বা প্রস্তাব করা যাবেনা।

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন পাঠকের মন্তব্য (0)    মোট দর্শন(2802)

You can switch to English and Bangla anytime by pressing Ctrl+y in windows and linux (Command+y in mac)



Can't read the image? click here to refresh

X
(4:50 AM) raj: sdf
(4:50 AM) raj: o k
(5:50 AM) raasdsdf: sddsfsdff
(5:50 AM) raasdsdf: df fsdf sdf
(5:50 AM) raasdsdf: df sdfsdf
(5:50 AM) raasdsdf: sdfsdf
(5:50 AM) raasdsdf: sdf sdf
(5:50 AM) raasdsdf: sdfa sdf sdfsf
(5:51 AM) raasdsdf: dsf sdfsdf sdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdfas sdf sfsdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdf sdfasdfasdf
(5:51 AM) raasdsdf: sd asfasdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdf sfasdfsadfsdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdf asdfsdf
(3:14 AM) raj: .
(9:37 AM) :
(5:49 AM) irfan: best Bangladeshi news paper
(8:49 AM) :
(11:25 AM) arnob: Nice web portal with huge features anybody here
(6:21 AM) :
(8:25 AM) rabin: hi
(2:12 PM) আমাদের বানারীপাড়া: আমাদের বানারীপাড়া
(1:32 PM) :
(9:25 PM) পরি: আমার বিয়ে হয়েছে এই চার মাস চলছে। আমার স্বামী আমাকে রেপ করে বিয়ে করেছেন।আমার স্বামী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ তে পড়ছে। আমার বাবা মা দুজনই মৃত।এজন্য তার পরিবার থেকে মেনে নিবে না।ছেলে এখন অন্য মেয়ের সাথে রিলেশনে ব্যস্ত। আমার সাথে যৌতুক চেয়ে তালাকের হুমকি দিয়েছিল। ২ সপ্তাহ আগে জানতে পারলাম সে নাকি তালাক দিয়েছে কোন উকিলের কাছে যেয়ে দিয়েছে।কিন্তু আমার কাছে এখনো কোনো কাগজ বা নোটিস আসেনি। এই অবস্হায় আমি তাকে কিভাবে কঠোর শাস্তি প্রদান করিতে পারি। :-(
(9:30 PM) পরি: উল্লেখ্য তার সাথে ২ সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ সম্পূর্ন বন্ধ। শেষ কথার দিন আমাকে হুমকি দিয়েছিল, আমি তাকে ফোন করলে আমার নামে হ্যারাজমেন্ট মামলা করবে। আমার কাছে বিয়ের লিগাল কাবিন আছে
(2:54 AM) :
(1:27 AM) :